একটি সাফল্যের গল্প – টিউবের যাত্রা শুরু হয় ১৮০ বছরেরও বেশি আগে। অ্যামেরিকান চিত্রশিল্পী জন র‌্যান্ড একটি চমৎকার এবং কার্যকর আবিস্কার করেন: টিউব। যদিও এটি বেশ কয়েকটি পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে গেছে, এই ”দ্রুততর প্যাকেজিং সমাধানটি ভাল অবস্থায় রয়েছে যা ভবিষ্যতের প্রয়োজনীয়তার জন্য প্রস্তুত।

 

জন গফ র‌্যান্ড (২৭ জানুয়ারী ১৮০১ – ২৩ জানুয়ারী ১৮৭৩) ছিলেন একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী শিল্পী যার একটি ক্রমাগত পুনরাবৃত্ত সমস্যা ছিলো: তার কাজের সময় কালার-প্যালেটে তার রং শুকিয়ে যেত। যখন তিনি ” প্রয়োজনীয় কাজের উপাদান কিভাবে সংরক্ষণ করবেন” তা নিয়ে চিন্তা করছিলেন, তখন তিনি একটি সহজ এবং কার্যকর সমাধান উদ্ভাবন করেছিলেন। তিনি বেশ কয়েকটি সীসার প্লেট কিনে ফেলেন এবং বৃত্তাকার টিউবের মতো ভাজ করে ফেলেন। এর পরে র‌্যান্ড টিউবের একপ্রান্তে থ্রেট দিয়ে একটি বৃত্তাকার অরিফিস সংযুক্ত করেন , যা তার আবিস্কারকে সম্পূর্ণ করেছিল। তার এই আবিস্কার ছিলো সংকোচনযোগ্য এবং এটি তার ব্যবহারকারীকে তার প্রয়োজনীয় পরিমাণ পেস্টি সামগ্রী সরবরাহ করতে সক্ষম। তিনি তার এই প্রযুক্তিগত আবিস্কারের বিশাল সম্ভাবনা উপলব্ধি করতে পারেন, তাই তিনি কোন সময় নষ্ট না করে ১১ অক্টোবর ১৮৪১ সালে একটি পেটেন্টের জন্য আবেদন করেন। যদিও র‌্যন্ড প্রথম টিউবটির মালিক ছিলেন, অন্যান্য উদ্ভাবকরা তাদের ভাগ্য চেষ্টা করেছিলেন এবং তাদের নিজস্ব ডিজাইন তৈরি করেছিলেন। র‌্যান্ডের এই উদ্ভাবনী ধারণা অনুকরণে সবচেয়ে সফল ব্যাক্তি (তার আবিষ্কারের অল্প সময়ের পরে, র‌্যান্ড শিল্প সম্পর্কে আরও জানার জন্য ইউরোপে চলে আসেন) ছিলেন ফরাসি শিল্পী মনসিউর রিচার্ড। তিনি তেল রঙের জন্য টিউব তৈরি করেছিলেন কিন্তু সীসার পরিবর্তে টিন ব্যবহার করেছিলেন। রিচার্ড তার পণ্যগুলি নিয়ে খুব সফল ছিলেন, এবং তিনি মনেট এবং রেনোয়ারের মতো সুপরিচিত শিল্পীদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে তাদের শিল্পকর্মকে নতুন মাত্রায় প্রসারিত করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন।

 

টিউবের ইতিহাসের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপটি আজ আমরা জানি তা হলো এটি তৈরীর উপকরণের ক্ষেত্র। প্যারিসে ১৮৫৫ সালের বিশ্ব প্রদর্শনীতে হেনরি সেন্ট-ক্লেয়ার যখন নতুন উপাদান, অ্যালুমিনিয়াম প্রবর্তন করেন তখন মৌলিক উপকরণের বৈচিত্রতা প্রসারিত হয়। ইতিমধ্যে, মেশিনের বিকাশ এবং শিল্প প্রক্রিয়াকরণ চলতে থাকে, যতক্ষণ না অ্যালুমিনিয়াম টিউব তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে। ১৮৭৯ সালে Pforzheim-এ প্রথম ব্যাপক উৎপাদন শুরু হয়। টিন এবং সীসা এখনও ব্যবহার করা হয়।

 

অন্যান্য শিল্প তাদের পণ্যের জন্য টিউব উদ্ঘাটন করে। 

 

১৮৮৬ সালের শুরুতে, অ্যালুমিনিয়াম টিউবগুলিকে পেইন্ট ব্যতীত অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে পূরণ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। ১৮৮৭ সালে ভিয়েনায় F.A. Sarg-এর এই দীর্ঘ-প্রয়োজনীয় রাসায়নিক যৌগটি আবিষ্কারের পর প্রথম বিকল্প সামগ্রী ছিল টুথপেস্ট।

 

টিউব প্যাকেজিং এর জন্য টুথপেস্ট-ই ছিলো আদর্শ পন্য।

 

ইউরোপ এবং আমেরিকায় এই পেস্টি যৌগের ক্রমবর্ধমান চাহিদা, টিউব এবং টিউব তৈরীর সক্ষমতার চাহিদাকে ত্বরান্বিত করে । পরবর্তী দশকগুলিতে, নতুন নতুন ও সুপরিচিত অনেক পণ্য টিউবের মাধ্যমে তাদের রাস্তা খুজে পেয়েছে।

 

১৯১৩ সালে সর্ব প্রথম টিউব উৎপাদনে অ্যালুমিনিয়ামের ব্যবহারের প্রচেষ্টা করা হয়। ১৯২০ সাল যার উচ্চ উৎপাদনশীলতা হারের প্রথম বছর ছিলো, এবং তারপর ২০-এর দশক ও ৩০-এর দশকে যার সংথ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ব্যবহারের দিক থেকে ১৯৩৯ সালে অ্যালুমিনিয়াম টিউব তৎকালীন সময়ে টিউব উৎপাদনে ব্যবহৃত সকল উপাদানের শীর্ষস্থান দখল করে নেয় যার দরুন আজ সীসা এবং টিন টিউব উৎপাদনের জন্য দীর্ঘ স্মরণাতীত উপকরণ। .

 

উচ্চ-মানের প্যাকেজিংয়ের উপাদান হিসাবে ১৮০ বছরেরও বেশি ইতিহাসের পরেও, অ্যালুমিনিয়াম টিউব এখনও একটি সাফল্যের গল্প। যদিও এটি প্রযুক্তিগত এবং অর্থনৈতিক দিক দিয়ে পরিবর্তন করেছে, তবুও এটি ইউরোপে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত টিউব। বিক্রি হওয়া সমস্ত টিউবের প্রায় ৪০ শতাংশ অ্যালুমিনিয়াম টিউব।

 

আজ সমস্ত শিল্প, যেখানে তারা ফার্মাসিউটিক্যালস, প্রসাধনী, পেইন্ট, বা প্রযুক্তিগত ব্যবহারের জন্য পেস্টি রাসায়নিক উৎপাদন করছে, তাদের মূল্যবান পণ্যগুলির জন্য প্রিমিয়াম প্যাকেজিং হিসাবে অ্যালুমিনিয়াম টিউবের উপর নির্ভর করে এবং তারা ভবিষ্যতে তা করতে থাকবে৷